Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

চৈত্রের প্রকৃতি ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে ॥ সবুজ পত্রপল্লবে ভরে উঠেছে বৃক্ষ শাখা

শেয়ার করুন

এম কবির ॥
বসন্তের প্রথম মাসটি ভারি মজা করে কাটায় বাঙালী। এ সময় কত যে উৎসব অনুষ্ঠান! পরের মাস চৈত্রে এসে বদলে যায় অনেক কিছু। বদলে গেছে এবারও। এই কদিন আগে ছিল শীত শীত। না গরম, না ঠান্ডা। ভোর রাতে কিছুটা ঠান্ডা অনুভব হলেও দিনে প্রচন্ড গরম দেখা দিয়েছে। সোমবার (২৫ মার্চ) বাংলা মাসের ১১ চৈত্র। এরই মাঝে চোখ রাঙাতে শুরু করেছে সূর্য। প্রকৃতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। আছে ঝড়ের আভাসও। এরপরও রঙিন ফুল আর বৃক্ষের কচি পাতা দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। এই ভাল-এই মন্দ সবই চৈত্রকে ঘিরে।
চৈত্র বাংলা সনের দ্বাদশ ও সমাপনী মাস। বিদায়ী বছরের সঙ্গে নতুন বছরকে এটি যুক্ত করে। রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন ‘চৈত্রের সেতারে বাজে বসন্ত বাহার/বাতাসে বাতাসে ওঠে তরঙ্গ তাহার…।’ সেই তরঙ্গ টের পাওয়া যাচ্ছে এখন। বসন্তের দান যত ফুল, যত নতুন পাতা এখন বিশেষ দৃশ্যমান হচ্ছে। সবুজ পত্রপল্লবে ভরে উঠেছে বৃক্ষ শাখা। বিবর্ণ চেহারা নিয়ে কোন রকমে দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় সব গাছেই সবুজের সমারোহ। নতুন পত্রপল্লবে ভরে উঠেছে। টাঙ্গাইলের প্রতিটি গাছে ভরপুর প্রাণ। কত রকমের ফুল ফুটে আছে! কিছু গাছে শুধু পাতা। সেই পাতার সৌন্দর্য মুগ্ধ করে রাখে। এমনকি বিভিন্ন সড়কের দু’পাশ দিয়ে যত গাছ ধুঁকছিল সবই এখন দারুণভাবে জানান দিচ্ছে অস্তিত্ব। গাছের নতুন কচি পাতা বাতাসে সুন্দর দোল খাচ্ছে। কবিগুরু এমন দৃশ্য দেখেই হয়তো লিখেছিলেন: ‘কার যেন এই মনের বেদন চৈত্র মাসের উতল হাওয়ায়,/ঝুমকো লতার চিকন পাতা কাঁপে রে কার চম্কে-চাওয়ায় /হারিয়ে-যাওয়া কার সে বাণী কার সোহাগের স্মরণখানি/ আমের বোলের গন্ধে মিশে/কনকনে আজ কান্না পাওয়ায়…।’ হ্যাঁ, মুকুল এসেছে আমের ডালেও। আর কিছুদিনের মধ্যেই ছোট ছোট আমের দেখা মিলবে। এই আমে গ্রামের ঘরে ঘরে ডাল রান্না হবে। আর কাঁচা আমের ভর্তার কথা তো বলাইবাহুল্য।
চৈত্রের সঙ্গে বাঙালীর অনেকগুলো উৎসব পার্বণের যোগ আছে। মাসের শেষ দিন ৩০ চৈত্র বাঙালীর বর্ষ বিদায়ের দিন চৈত্র সংক্রান্তি। আবহমানকাল থেকে নানা লোকাচার ও অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসবটি পালন করে আসছে বাংলাদেশের মানুষ। মূল আয়োজন গ্রামে হলেও শহরে সংস্কৃতিতে এর কদর এখন যথেষ্ট। চৈত্র সংক্রান্তির দিন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শাস্ত্র মেনে স্নান, দান, ব্রত, উপবাস করে কাটান। নিজ নিজ বিশ্বাস অনুযায়ী অন্য ধর্মাবলম্বীরাও নানা আচার অনুষ্ঠান পালন করেন। চৈত্র সংক্রান্তির আরেকটি বড় উৎসব চড়ক। গোটা চৈত্র মাসে সন্ন্যাসীরা উপবাস, ভিক্ষান্নভোজন প্রভৃতি নিয়ম পালন করেন। সংক্রান্তির দিন তারা শূলফোঁড়া, বাণফোঁড়া ও বড়শিগাঁথা অবস্থায় চড়কগাছে ঝোলেন। আগুনের ওপর দিয়ে হাঁটেন। ভয়ঙ্কর ও কষ্টসাধ্য শারীরিক কসরত দেখতে সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষ জড়ো হন। আনন্দে মাতেন। এ আয়োজনের সঙ্গে আরও চলে গাজনের মেলা।
তবে চৈত্রের খড়া, শুষ্ক রূপ দুর্ভোগও বাড়ায়। এ মাসের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য গরম। এ সময় প্রচন্ড দাবদাহ শুরু হয়। মাঠ ঘাট শুকিয়ে চৌচির হয়ে যায়। বৃষ্টিও নিয়মিত হয় না। ফলে শেষ সময়ে এসে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বোরো ধানের আবাদ। এসব কারণে এক সময় চৈত্রকে বিবেচনা করা হতো অভাবের মাস হিসেবে। শেষ মাসে এসে কৃষকের গোলা ভর্তি ধান শেষ হয়ে যেত। টাকা পয়সা হাতে থাকত না। বাড়তি খরচের কথা এ সময় ভাবতেই পারতেন না তারা। শুধু কী তাই? চৈত্র মাসে বিয়ে-শাদি পর্যন্ত বন্ধ থাকত। সবাই অপেক্ষা করত বৈশাখের জন্য। তবে এখন বদলে গেছে অনেক কিছু। সারাবছরই কোন না কোন ফসল হয়। এই কিছুদিনের মধ্যে রোপণ করা হবে গ্রীষ্মের শাকসবজি। গ্রামীণ অর্থনীতি অন্য যে কোন সময়ের মতো সচল থাকবে। চৈত্র নিয়ে তাই দুশ্চিন্তা নেই কোন। বরং এ মাসেই বৈশাখ বরণের বিপুল প্রস্তুতি চলে। চলছে। নতুন বছরে, নতুন স্বপ্নের দিকে হাত ধরে এগিয়ে নিয়ে যাবে চৈত্র- বাঙালীর তা-ই চাওয়া।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ