Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

চুরির অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতা সুভাষের ভাই তপন বরখাস্ত

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
অসৎ উদ্দেশ্য ও বিধি বর্হিভুত ভাবে প্রায় ৩ কোটি টাকা মুল্যের ১২৯ মেট্রিক টন ধান বীজ ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার দত্তনগর কৃষি খামার থেকে চুরি করে পাচারের অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় দত্তনগর কৃষি খামারের ৩ উপ-পরিচালককে শাস্তিমুলক বদলীসহ সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বরখাস্তকৃত কর্মকর্তারা হলেন- দত্তনগর কৃষি খামারের গোকুলনগর ইউনিটের উপ-পরিচালক তপন কুমার সাহা, করিঞ্চা খামারের উপ-পরিচালক ইন্দ্রজিৎ চন্দ্র শীল ও পাথিলা কৃষি খামারের উপ-পরিচালক আক্তারুজ্জামান তালুকদার। একই সাথে যশোর বীজ পক্রিয়াজাত কেন্দ্রের উপ-পরিচালক আমিন উল্যাকেও বরখাস্ত করে চিঠি দেয়া হয়েছে। বিএডিসির সচিব আব্দুল লতিফ মোল্লা সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে এক চিঠিতে এই আদেশ দেন। বিএডিসির ওয়েবসাইট থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, টাঙ্গাইল শ্রী শ্রী কালিবাড়ীর সভাপতি সুভাষ চন্দ্র সাহার ছোট ভাই ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার দত্তনগর কৃষি খামারের গোকুলনগর ইউনিটের উপ-পরিচালক তপন কুমার সাহা। কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের এলাকার ও জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা সুভাষ চন্দ্র সাহার ভাই হওয়ায় কর্মস্থলে অবৈধ প্রভাব খাটাতেন তপন কুমার সাহা। কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা সুভাষের প্রভাব খাটিয়েও শেষ পর্যন্ত রক্ষা হলো না। চুরি করে পাচারের অভিযোগ প্রমানিত ও শাস্তিমুলক বদলীসহ সাময়িক বরখাস্ত হন কৃষি খামারের উপ-পরিচালক তপন কুমার সাহা।তদন্তের এ খবর কৃষিমন্ত্রী জানতে পেরে খুবই বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ প্রকাশ করেছেন। দুর্নীতির এ রকম ঘটনা নিজ জেলা টাঙ্গাইলসহ আরও কোথায় ঘটে থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নিদের্শ দিয়েছেন।
আরও জানা যায়, সচিব আব্দুল লতিফ মোল্লা স্বাক্ষরিত বরখাস্ত কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো পৃথক পৃথক (১২.০৬.০০০০.২০৩.২৭.২৮৩.১৯.৭২১/৭২২/৭২৩ ও ৭২৪) স্মারকের চিঠিতে বলা হয়েছে- বিধি বহির্ভূতভাবে অসৎ উদ্দেশ্যে স্বীয় স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার গোকুল নগর, পাথিলা ও করিঞ্চা বীজ উৎপাদন খামারে ২০১৮/১৯ উৎপাদন বর্ষে কর্মসুচি বহির্ভুত অতিরিক্ত ১২৯.২২ মেট্রিক টন এসএল-৮ এইচ হাইব্রীড জাতের ধান বীজ পক্রিয়াজাত কেন্দ্র যশোরে প্রেরণ করেছেন। আপনি/আপনারা অতিরিক্ত বীজ উৎপাদনের পরিমান নিয়মানুযায়ী মজুদ ও কাল্টিভেশন রেজিষ্ট্রারে লিপিবদ্ধ করেন নি। এমন কি অতিরিক্ত কোন বীজ প্রেরণের কোন চালান বা তথ্য প্রমান খামারে রাখেন নি। আপনারা উক্ত ধান বীজ অসৎ উদ্দেশ্যে নিজেরা আত্মসাৎ করার জন্য সংরক্ষন ও উৎপাদন বিষয়ক প্রকৃত তথ্য গোপন করেছেন মর্মে প্রতিয়মান হয়। যেহেতু আপনাদের এহেন কার্যকলাপ বিএডিসি কর্মচারী চাকরী প্রবিধানমালা ১৯৯০ এর ৩৯ (ক)(খ)(চ) দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসদাচারণ, চুরি, আত্মসাত, হতবিল তছরুপ ও প্রতারণার সামিল। ফলে আপনি বা আপনাকে ১৯৯০ এর ৪৫ (১) বিধি মোতাবেক সংস্থার চাকরী থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক (খামার) বিএডিসি, ঢাকা দপ্তরে সংযুক্তি করা হলো। এই সময়ে সাময়িক বরখাস্তকালীন বিধি মোতাবেক খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারেন না।
উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার দত্তনগর গোকুলনগর, পাথিলা ও করিঞ্চা বীজ উৎপাদন খামার থেকে কৌশলে প্রায় ৩ কোটি টাকার ১২৯.২২ মেট্রিক টন ধান চুরি করে বিক্রির জন্য যশোর বীজ বিক্রয় কেন্দ্রে পাঠানো হলে ধরা পড়ে যান ওই তিন উপ-পরিচালক। বিষয়টি তদন্ত করতে এসে সত্যতা পান বিএডিসির তদন্ত কর্মকর্তারা। অভিযোগ উঠেছে, প্রতি বছর চাহদিা বা বরাদ্দপত্রের এভাবে কোটি কোটি টাকার ধান বীজ পাঁচার করা হয় বলে খামারের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি সুত্র জানায়।
তথ্য সূত্র- দৈনিক ইনকিলাব, ১০ সেপ্টেম্বর।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ