ঘাটাইলে পাহাড়ী অঞ্চলে লটকন চাষে লাভবান কৃষকরা

শেয়ার করুন

আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল ॥
টক-মিষ্টির রসালো ফল লটকন চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পাহাড়ী জনপদে। সখের বশে রোপন করা লটকন গাছে বাম্পার ফলন পেয়েছেন উপজেলার সৌখিন ফল চাষী স্কুল শিক্ষক শামসুল আলম। এই বাগানের মিষ্টি স্বাদের লটকন কিনতে ভির জমাচ্ছেন দুর-দুরান্তের পাইকাররা।
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পাহাড়ী অঞ্চলের মাটিতে আম, আনারস, কলা, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফল ফসলের চাষ হলেও লটকন চাষ একেবারেই নতুন। রসুলপুর গ্রামের সৌখিন ফল চাষী স্কুল শিক্ষক গত কয়েক বছর আগে তার ফলের বাগানে সখের বশে কয়েকটি লটকন গাছের চারা রোপন করেন। নিজের স্বযত্নে বড় হওয়া গাছে গতবছর লটকনের ফলন হয়। ভালো ফলন পাওয়ায় তিনি তার বাগানে আরো লটকন গাছের চারা রোপন করেন। চলতি মৌসুমে বাগানে সাড়ে চার হাজার গাছের মধ্যে দুই হাজার গাছে লটকন ধরেছে। ফলনও হয়েছে ভালো। ইতিমধ্যে লটকন বিক্রিও শুরু হয়ে গেছে। সারা জেলায় লটকন চাষ ছড়িয়ে দিতে তিনি লটকনের চারাও বিক্রি করেন সারা বছর। তবে সেচ সমস্যা ও প্রধান সড়ক থেকে বাগানে যাবার রাস্তাটির দুরবস্থার জন্য তার এবং ক্রেতাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সফল ফল চাষী ও শিক্ষক শামসুল আলম টিনিউজকে জানান, করোনা ভাইরাসের দুর্যোগের কারণে লটকন বিক্রি নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। কিন্তুবাগানের লটকনের সুনাম ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ফল ব্যবসায়ীরা এসে বাগান থেকেই পাইকারী দরে লটকন কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এই বাগানে ফল কিনতে আসা ফল ব্যবসায়ীরা টিনিউজকে জানান, এই বাগানের লটকনের আকার বড় ও খেতে সুস্বাদু। এ কারণে বাজারে নেয়ার সাথে সাথে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে লটকন। পাইকাররা টিনিউজকে জানান, টাঙ্গাইলের পাহাড়ি এলাকার কৃষকের অর্থনৈতিক চিত্র পাল্টে দিচ্ছে এক সময়কার অপ্রচলিত ফল লটকন। জেলায় লটকন চাষ ছড়িয়ে দেয়া গেলে অন্যান্য ফল-ফসলের পাশাপাশি লটকন হবে আরেকটি অর্থনৈতিক খাত।
ঘাটাইলের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা দিলশাদ জাহান টিনিউজকে জানান, ফল চাষের জন্য বিখ্যাত ঘাটাইলের পাহাড়ী অঞ্চলে লটকন চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে। চাষীদের প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে কৃষি অফিস থেকে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ