Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

ঘাটাইলে এবার নৌকার মাঝি কে? বিএনপির ভরসা আজাদ

শেয়ার করুন

মাসুদ আব্দুল্লাহ/ নজরুল ইসলাম ॥
ঘাটাইল-৩ এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে ধোয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। যোগ্য নেতৃত্ব সংকটে পড়েছে আওয়ামী লীগ। ঘাটাইলে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের কোন কমিটি নেই। আহবায়ক কমিটি দিয়ে কার্যক্রম চলছে। অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে দিশেহারা আওয়ামী লীগের নেতাকমীর্রা। এই আসনের বর্তমান এমপি আমানুর রহমান খান রানা জনপ্রিয় আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার আসামী হয়ে প্রায় দুই বছরের অধিক সময় ধরে হাজতবাস করছেন। এ অবস্থায় আগামী সংসদ নির্বাচনে তার মনোনয়ন পাওয়া প্রায় অনিশ্চিত। এ সুযোগে মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগের বেশকয়েকজন নেতা। এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য (ভিসি) ও পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের মহাসচিব অধ্যাপক ডাক্তার কামরুল হাসান খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু, সদ্য আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া শিল্পপতি সৈয়দ আবু ইউসুফ আব্দুল্লাহ তুহিন ছাড়াও অন্যান্যরা।
সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিভিন্ন কৌশলে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, জেলার ঘাটাইল-৩ আসনে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়মুলক কর্মকান্ড মুখ থুবড়ে পড়েছে। দলীয় বর্তমান এমপি প্রায় দুই বছরের অধিক সময় ধরে অনুপস্থিত। আগামী নির্বাচনে কে হবেন নৌকার মাঝি, এটাই এখন নেতাকর্মীদের মাঝে আলোচিত বিষয়। তাই এই আসনে আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ চায় একজন যোগ্য প্রার্থী। সাংগঠনিক ভিত্তি, ত্যাগী ও যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে এই আসনে আওয়ামী লীগ তিন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। কারাগারে থাকা বর্তমান এমপি আমানুর রহমান খান রানা, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু এবং পৌরসভার মেয়র শহীদুজ্জামান খান শহীদের নেতৃত্বে বিভিন্ন মনোনয়ন প্রত্যাশীদের একটি গ্রুপ। এই তিন গ্রুপের কারণে এই আসনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির হওয়ার পাশাপাশি দলের সাধারণ কর্মীসমর্থক ও ভোটারাও দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন। তাই এই আসনের আওয়ামী লীগের কর্মীসমর্থকরা দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঠিক সিদ্ধান্ত ও নির্দেশের অপেক্ষায় আছেন। তারা কোনো বিতর্কিত প্রার্থীকে এই আসনে নৌকার প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান না।
ঘাটাইলের উন্নয়নের জন্য যোগ্য প্রার্থী হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য (ভিসি) পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির অধিকারী অধ্যাপক ডাক্তার কামরুল হাসান খান মনোনয়ন পেলে বিএনপি প্রার্থীর সাথে জয় পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন। ডাক্তার কামরুল হাসান খান বলেন, ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের অভিভাবক ছিলেন শামসুর রহমান খান শাজাহান। তার সাথে থেকে দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে কাজ করেছি। মাঠ পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করতে সহযোগিতা করেছি। তাছাড়াও সর্বোপরি ডাক্তার হিসেবেও জনগণের সেবা করে যাচ্ছি। এ কারণে তৃণমুলের নেতাকর্মীরা আমাকে চায়। জননেত্রী ও দেশের সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘাটাইলের উন্নয়নের স্বার্থে আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি অবশ্যই জয়ী হবো। অপর প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু বলেন, খুনি রানাকে ঘাটাইলবাসী আর চায় না। তার সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে প্রধানমন্ত্রী খুব্ধ এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। ঘাটাইলের জনগণ ভুল করে তাকে ভোট দিয়েছিল। কালো টাকা ও পেশীশক্তি দিয়ে সে নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচন করে জয় পেয়েছিল। তার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমিই প্রতিবাদ করেছি। ঘাটাইলবাসীর কাছে রানা এখন অতীত। উপনির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিল। আবারো মনোনয়ন পেলে প্রধানমন্ত্রীকে নৌকা উপহার দিতে পারবো।
এদিকে, বিএনপিতে দলীয় অন্তকোন্দল থাকলেও প্রকাশ্যে তেমন কোন প্রভাব নেই। তারপরও ঘাটাইলে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত ও শক্তিশালী। দলের অভ্যন্তরে নেতৃত্বের কোন্দল থাকলেও উপজেলার তৃণমূল পর্যায়ের সকল নেতাকর্মী বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদের প্রতি আস্থাশীল। তবে তাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে এবার প্রার্থী হবেন জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ মাইনুল ইসলাম। আসনটি পুনরুদ্ধারে বিএনপি অনেকটাই মরিয়া।
এ আসনে অন্যান্য দলের তেমন কোন তৎপরতা নেই। তারপরও যারা প্রার্থী হতে পারেন তারা হলেন- জাতীয় পার্টির এডভোকেট সুজাত আলী, জাকের পার্টির খলিলুর রহমান, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রণ্টের (বিএনএফ) জেলা শাখার আহ্বায়ক আতাউর রহমান খান (বড় ভাই) প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসন। এ আসনে বর্তমানে মোট ভোটার রয়েছেন ৩ লাখ ১৮ হাজার ৬১০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৫৮ হাজার ৫৮৩ জন এবং নারী ভোটার এক লাখ ৬০ হাজার ২৭ জন। এ আসনে এবার ১১৯টি ভোট কেন্দ্রে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ