Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

গোপালপুরে স্ত্রীর পরকীয়ার বলি শামীম ॥ প্রেমিকের স্বীকারোক্তি

শেয়ার করুন

আদালত সংবাদদাতা ॥
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার উত্তর বিলডগা গ্রামের চাঞ্চল্যকর শামীম মেলেটারী ওরফে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য শামীমকে স্ত্রীর পরকীয়ার কারণে শ্বাসরোধে হত্যা করে হাত-পা বেধে সুন্দর ব্রিজের উপর থেকে স্থানীয় বৈরাণ নদীতে ফেলে দেয়া হয়। মামলার মূল আসামি গোপালপুরের আভঙ্গী গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে রফিকুল ইসলাম টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আকরামুল ইসলামের কাছে মঙ্গলবার (১২ মার্চ) ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যাকান্ডের পূর্বাপর বর্ণনা করেন।
জবানবন্দিতে আসামী রফিকুল ইসলাম জানান, শামীম মেলেটারী ও তিনি ঘনিষ্ঠ বন্ধু। অবসরে আসার পর শামীম পেনশনের পুরো টাকা জুয়া খেলে হেরে যায় এবং ঘটনাটি গোপন রাখে। পরে শামীম নানা জনের কাছ থেকে প্রচুর ধার-কর্জ করে। পাওনাদারদের চাপে শামীম ঢাকায় গিয়ে আত্মগোপন করে। শামীমের অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী রাজিয়া বেগমের(৩০) সাথে তার পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই মাঝে একই উপজেলার বাইশকাইল(গইজারপাড়া) গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে সুজনের সাথেও রাজিয়া বেগমের দৈহিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে রাজিয়া বেগমের পরিকল্পনা অনুযায়ী বিগত ২০১৬ সালের (১৭ আগস্ট) রাতে ঢাকা থেকে শামীম মিলিটারীকে(৩৯) ডেকে আনা হয়। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাকে সদর রাস্তা দিয়ে বাড়ি যেতে না দিয়ে নদীর পাড় দিয়ে বাড়িতে নেয়ার পথে সুন্দর ব্রিজের সামান্য দূরে মুখে ওষুধমাখা রুমাল চাপা দিয়ে অজ্ঞান করা হয়। পরে আগে থেকে কিনে আনা রশি দিয়ে হাত-পা বেধে সুন্দর ব্রিজের উপর থেকে নিচে বৈরাণ নদীতে ফেলে দেয়া হয়। ওই বছরের (২৪ আগস্ট) স্থানীয় লোকজন দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশে খবর দিলে লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি আরো জানান, এ হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনা করেন শামীম মিলিটারীর স্ত্রী রাজিয়া বেগম আর বাস্তবায়নে অংশ নেন রাজিয়া বেগম, রফিকুল ইসলাম, সুজন ও আব্দুর রহিম।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টাঙ্গাইল গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি-দক্ষিণ) এসআই জাহাঙ্গীর আলম জানান, গোপালপুরের সাবেক সেনা সদস্য শামীম মিলিটারী হত্যাকান্ডের বিষয়ে প্রথমে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করে তার স্ত্রী রাজিয়া বেগম গোপালপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হাফিজুর রহমান জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কনস্টেবল শামসুজ্জামানের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে প্রথমে বাইশকাইল(গইজারপাড়া) গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে সুজন(২৮) ও আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আব্দুর রহিমকে(৩০) গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক নিহত শামীম মিলিটারীর স্ত্রী রাজিয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করে এবং এসআই হাফিজুর রহমান বাদি হয়ে স্ত্রীসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক অজ্ঞাত আরো ২-৩জনকে আসামি করে গোপালপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের(ডিবি-দক্ষিণ) এসআই জাহাঙ্গীর আলম মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে হত্যাকান্ডের মূল আসামি রফিকুল ইসলামকে কৌশলে গ্রেপ্তার করেন। পরে গ্রেপ্তারকৃত রফিকুল ইসলাম ১৬৪ ধারায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
উল্লেখ, বিগত ২০১৬ সালের (২৪ আগস্ট) গোপালপুর উপজেলার সুন্দর ব্রিজের কাছে বৈরাণ নদীতে কচুরিপানার নিচ থেকে উত্তর বিলডগা গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য শামীমের হাত-পা বাঁধা অবস্থায় লাশ উদ্ধার করা হয়।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ