গোপালপুরে অপুষ্টির শিকার এতিমদের মুখে হাসির ঝিলিক

শেয়ার করুন

গোপালপুর সংবাদদাতা ॥
দিনে তিন বেলা খাবার জোটে না। কপাল ভালো হলে মাসে একবার মাছ-মাংসের দেখা মেলে। দানশীলরা কখনো হাত বাড়ালে তবেই বছরে দুই-একবার ক্ষীরপায়েস মুখে উঠে। লিকলিকে ছিপছিপে শরীর নিয়ে পড়াশোনার কাজ চালাতে গিয়ে গলদগর্ম থাকে তারা। লোকে বলে এতিম। আর যেখানে তাদের অনাদরে বসবাস তার নাম এতিমখানা। কারো বাবা নেই, কারো মা নেই। কারো দুকূলে কেউ নেই। এমন অনাথ ও নিঃস্ব শিশু এবং কিশোরদের মুখে আজ হাসির ঝিলিক দেখা যায়। ভাতে-মাছে বাঙ্গালীর চিরন্তন কামনার যে বচন তা সত্য হয়ে ধরা দেয়। আর এ দুর্লভ সুযোগের রচনা করলেন গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিকাশ বিশ্বাস। ব্যতিক্রমধর্মী এ মহৎ উদ্যোগ টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
গোপালপুর উপজেলার নগদাশিমলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আবুল হোসেন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জগন্নাথবাড়ী মৌজার কইচা বিলের প্রায় ৬ একর জায়গা জবরদখল করে পুকুর খনন করে মাছ চাষ শুরু করে। কয়েক মাস আগে উপজেলা প্রশাসন আবুল হোসেনকে পুকুর থেকে উচ্ছেদ করে লাল নিশান টানিয়ে সীমানা চিহ্নিত করেন। পুকুরটির শ্রেণীভূক্ত নামা খাস থেকে সায়রামহলভূক্ত করার জন্য জেলা প্রশাসনের নিকট প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়। এজন্য পুকুরে নতুন করে মাছ না ছাড়তে তাকে নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু আবুল হোসেন প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ওই পুকুরে নতুন করে মাছ ছাড়েন এবং আরেকজনকে অবৈধভাবে বর্গা দেন।
খবরটি জানতে পেরে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের অনুমতিক্রমে সোমবার (১৪ অক্টোবর) উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিকাশ বিশ্বাস, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) রেজা মাসুম প্রধান, পুলিশ ও সাংবাদিককর্মীরা ঘটনাস্থলে হাজির হন। তিনি একদল জেলে দিয়ে পুকুরের সাকূল্য মাছ তোলেন। সব মাছ ট্রাকে ভরে নগদাশিমলা ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে জড়ো করা হয়। এর মধ্যে গোপালপুর উপজেলার সকল এতিমখানার তালিকা তৈরি করা হয়। সেই তালিকা ধরে এক ট্রাক রুইকাতল, মৃগেল, পাঙ্গাস, শরপুটি মাছ এতিমখানার শিশুকিশোরদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এ সময় এতিমদের সাথে তাদের শিক্ষকরাও উপস্থিত ছিলেন।
মজিদপুর এতিমখানার ছাত্র বুলবুল টিনিউজকে জানায়, প্রায় দেড় মণ মাছ পেয়েছে তাদের এতিমখানা। আনন্দমুখরিত দেড়শতাধিক এতিম সোমবার (১৪ অক্টোবর) রাতে পরম তৃপ্তির সাথে এসব মাছের রান্নার খাবার গ্রহণ করেন। পাঙ্গাস মাছের রেজালার প্রতি অনেক দিনের সাধ ছিল তাদের। উপজেলা প্রশাসনের বদৌলতে সেই কাঙ্খিত খাবার জোটে তাদের। ১৯টি এতিমখানার প্রায় সহ্রসাধিক এতিম সোমবার (১৪ অক্টোবর) রাতে পেট পুরে মাছেভাতে উদরপূর্তি করেছেন বলে জানান সূতি হিজলীপাড়ার এতিমখানার শিক্ষকরা।
এতিমদের মধ্যে মাছ বিতরণের সময় নগদাশিমলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম হোসেন আলী, প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যাপক জয়নাল আবেদীনসহ সকল ইউপি সদস্য ও রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ব্যাপারে গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিকাশ বিশ্বাস টিনিউজকে জানান, অবৈধ দখল উচ্ছেদের পর সরকারি দখল বজায় এবং রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে প্রশাসন ব্যবস্থা নেয়। আর পুকুরের মাছ আইনঅনুযায়ী বিলিবন্দেজ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ