গোপালপুরের ইউএনও স্ট্যান্ড রিলিজের এক সপ্তাহ পর গোপনে অফিস করলেন

শেয়ার করুন

গোপালপুর সংবাদদাতা ॥
স্ট্যান্ড রিলিজ (বদলী) করার এক সপ্তাহ পর পুরনো কর্মস্থলে এসে গোপনে অফিস করলেন টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) দিলরুবা শারমীন। বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) দুপুর দুইটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত তিনি অফিস করেন। এ সময়ে অফিসের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে রাখা হয়। সংবাদকর্মীদের ভিতরে প্রবেশে বাঁধা দেয়া হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, গোপালপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) জিনিয়া জিনাতের সাথে অসৌজন্যমুলক আচরণ এবং প্রশাসনিক অনিয়মের কারণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় গত বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলরুবা শারমীনকে শরীয়তপুরের ডামুডা উপজেলায় স্ট্যান্ড রিলিজ (বদলী) করে এবং টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দ্র দাসকে গোপালপুর উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি গত শনিবার (৪ আগস্ট) গোপালপুরে এসে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পাবার বিষয়টি অবহিত করেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে তিনি সপ্তাহের প্রতি সোমবার ও বুধবার সপ্তাহে দু’দিন গোপালপুরে অফিস করছেন।
এদিকে বুধবার (৮ আগস্ট) বিকেলে স্ট্যান্ড রিলিজ (বদলী) হওয়া ইউএনও দিলরুবা শারমীন গোপালপুর সরকারি বাসভবনে এসে উঠেন। গত বুধবার (৮ আগস্ট) রাতে বাসায় বসে কর্মচারিদের ডেকে নিয়ে অনেক ফাইলে স্বাক্ষর করেন। বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) দুপুর দুইটায় তিনি অফিসে ইউএনও’র চেয়ারে বসে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের ডেকে এনে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত অফিস করেন। এ সময় একের পর এক ফাইলে স্বাক্ষরের কাজ চলে। এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হালিমুজ্জামান তালুকদার উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে আলমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মোমেন টিনিউজকে জানান, স্ট্যান্ড রিলিজ (বদলী) হওয়ার পরও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলরুবা শারমীন গোপনে অফিস করছেন নিজের অপকর্ম ঢাকার দেয়ার জন্য। আগের (বেগডেটে) তারিখ দিয়ে অনেক ফাইলে স্বাক্ষর করে তিনি দেড় কোটি টাকার ভূয়া প্রকল্প জায়েজ করছেন।
নির্বার্হী কর্মকর্তার কার্যালয়ের নাজমুল ইসলাম টিনিউজকে জানান, তিনি ফাইলে স্বাক্ষর করেননি। কর্মচারিরা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় দিয়েছেন। তাকে ক্রেস্ট উপহার দেয়া হয়েছে।
সদ্য বদলি হওয়া গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলরুবা শারমীনের সাংবাদিকরা মুঠোফোনে ফোন করা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। এ সময় ইউএনও’র কক্ষে বসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হালিমুজ্জামান তালুকদারকে ফোন দিয়ে অনুরোধ করে তার ফোন দিয়ে ইউএনও’র সাথে কথা বলতে চাইলে দিলরুবা শারমীন সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে অস্বীকার করেন।
গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দ্র দাস টিনিউজকে জানান, তিনি সারা দিন ভূঞাপুরে অফিসিয়াল কাজে ব্যস্ত ছিলেন। সাবেক ইউএনও দিলরুবা শারমীন গোপালপুরে অফিস করেছেন বলে তিনি শুনেছেন। বিষয়টি এখনো তার কাছে পরিস্কার নয়। তিনি ঘটনাস্থলে না গিয়ে কিছু বলতে পারছেন না।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক খান মোহাম্মদ নুরুল আমীন টিনিউজকে জানান, গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলরুবা শারমীনকে গত (২ আগস্ট) শরীয়তপুর জেলার ডামুডা উপজেলায় স্ট্যান্ড রিলিজ (বদলি) করা হয়েছে। তিনি এখন ট্রানজিট লিভে আছেন। ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঝোটন চন্দ্র দাসকে গোপালপুর উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এক সপ্তাহ পর বদলী হওয়া কর্মকর্তা অফিস করতে পারেন না। এটি আইনসিদ্ধ নয়।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ব্রেকিং নিউজঃ