গার্মেন্টস কর্মী শিউলী হত্যার প্রধান আসামি গ্রেফতার

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টারঃ নিজের ইজ্জত বাঁচাতে চলন্ত বাস থেকে লাফিয়ে পড়ে গার্মেন্টস কর্মী শিউলী বেগম মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাসের চালক সহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলো – বাসের চালক রুহুল আমিন রনি (৩৮)। রনি নড়াইল জেলার পাঙ্খারচর গ্রামের মৃত মুক্তার শেখের ছেলে। অপর গ্রেফতারকৃত আরিফ (৩৫)। আরিফ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পুষ্টকামুরী চরপাড়া গ্রামের মৃত জয়নাল মিয়ার ছেলে।

এছাড়াও গাজীপুরের বারইপাড়া থেকে ঘটনার সাথে জড়িত গ্রামীণ শুভেচ্ছা পরিবহণের “ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৩৬৩৭” নম্বর বাসটি আটক করেছে মির্জাপুর থানার পুলিশ।

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মিজানুর রহমান জানান, আমরা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রামীণ শুভেচ্ছা পরিবহণের বাসটি আটক করি। পরে ঐ দিন বাসটির চালক রুহুল আমিন রনিকে আটক করা হলে রনি ঘটনার বর্ণনা করে।

ড্রাইভার রনি জানায়, রাতে গাজীপুর থেকে একটি রিজার্ভ ট্রিপ নিয়ে রাবনা বাইপাস আসে। পরে যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে গাড়িটি একাই ফিরতেছিল। গাড়িতে অন্য কোন স্টাফ ছিল না। ফেরার পথে খুব ভোরে চরপাড়া পৌঁছালে গার্মেন্টস কর্মী শিউলী বাসটিতে উঠে। এসময় তার সাথে সাথে আরিফও গাড়িতে উঠে শিউলীর শরীরে হাত দেয়ার চেষ্টা করে। এসময় শিউলী আরিফকে বাঁধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এক পর্যায়ে শিউলী গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে নামতে গিয়ে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়। এরপর আরিফ গাড়ি থামিয়ে গাড়ি থেকে নেমে পড়ে। এসময় রনি আরো জানায়, আরিফ নেমে যাওয়ার পর আমি গাড়ির লুকিং গ্লাাসে মেয়েটিকে হাত ধরে টেনে রাস্তায় থেকে সরিয়ে নিতে দেখি।

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মিজানুর রহমান আরো জানান, আরিফকে গ্রেফতার করে ড্রাইভার রনির মুখোমুখি করা হলে রনি তাকে সনাক্ত করে। ০৯ আগস্ট বৃহস্পতিবার আরিফকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে গার্মেন্টস কর্মী শিউলী কারখানার নির্ধারিত বাস ফেল করে অন্য একটি বাসে তার কর্মস্থল মির্জাপুরের গোড়াই শিল্পাঞ্চলের কমফিট কম্পোজিট মিলে যাওয়ার উঠেন। এ সময় ওই বাসে যাত্রী বেশী কয়েকজন দুর্বৃত্ত শিউলী বেগমের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করলে বাসের জানালা দিয়ে মাথা বের করে সে চিৎকার করতে থাকেন।

এ ঘটনা বাওয়ার কুমার জানী গ্রামের শিউলী বেওয়া ও আব্দুর রউফ নামে দুইজন দেখলেও তারা কোন সহায়তা করতে পারেনি। দেড় কিলোমিটার দূরে মহাসড়কের বাওয়ার কুমারজানী নামক স্থানে পৌঁছার পর দুষ্কৃতিকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে সম্ভম বাঁচতে শিউলী চলন্ত বাস থেকে লাফ দিয়ে নামতে গিয়ে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ব্রেকিং নিউজঃ