খালেদার চিকিৎসার নামে রাজনীতি করছে বিএনপি- ড. আব্দুর রাজ্জাক

শেয়ার করুন

মাসুদ আব্দুল্লাহ্ ॥
কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, কারাবন্ধী খালেদা জিয়া জামিন পাবেন কি পাবেন না, এ দায়িত্ব আমাদের না, এটা আদালতের বিষয়। আদালত যদি খালেদা জিয়াকে জামিনে মুক্ত করে দেয়। তাহলে আমাদের কোন আপত্তি নেই। খালেদা জিয়া প্যারোলে যাবেন না, জামিন নিয়ে বিদেশে চিকিৎসা নিতে চান। ওনি নাকি আপোষহীন নেত্রী। সেই আপোষহীন নেত্রীর এই অবস্থা যে দূর্নীতিতে দেশটাকে নিমজ্জিত করেছিল। এদিকে বিএনপির কিছু নেতা খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা করছে। বিএনপিকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চান,না রাজনীতি। বর্তমানে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার নামে রাজনীতি করছে বিএনপি। চিকিৎসার নামে রাজনীতি করে বিএনপি আবার ক্ষমতায় আসতে চাচ্ছে। আপনাদের সেই সুযোগ দেয়া হবে না। বাংলার জনগণ সেই সুযোগ দিবে না। চিকিৎসার নামে রাজনীতি করার চেষ্টা করবেন না। তাতে আপনারা সফল হবেন না। খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার কোন কমতি নেই। তাকে দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
শুক্রবার (১ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের ভুঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
এ সময় বেগম খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্য বলেন, বিএনপির পায়ের নিচে এখন মাটি নাই। জনবিছিন্ন হয়ে গেছে দলটি। যদি জনগণ আপনাদের পাশে থাকতো তাহলে আপনাদের আন্দোলন সফল হতো। আপনাদের আন্দোলনে এখন আর জনগণ আসে না। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে পৃথিবীর অন্যতম উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। সারা পৃথিবী বাংলাদেশের উন্নয়নে বিষ্ময় প্রকাশ করেছে। কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্য এসেছে। দেশে এখন খাদ্যে কোন ঘাটতি নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে গেছেন। অপরদিকে, খালেদা জিয়া দেশ শাসনের নামে এতিমের টাকা চুরি করে খেয়েছে। বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য গ্রাম পর্যায় থেকে দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করা। বাংলাদেশ এখন খাদ্যে টেকসই স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দিকে যাচ্ছে। খাদ্যশস্য উৎপাদনে বর্তমানে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ১০ম। এখন প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে, নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লিখিত বিশেষ অগ্রাধিকার খাত হিসেবে পুষ্টিসম্মত ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা, দারিদ্র্য নির্মূল ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা। গত ১০ বছরে বাংলাদেশের কৃষি খাত অনেক উন্নত হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে জার্মান সরকার সব ধরনের সহায়তা করবে। বিশেষ করে কৃষির আধুনিকায়ন, যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানো, কৃষিবিজ্ঞানীদের উন্নত প্রশিক্ষণ ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতকে আরও উন্নত করতে তারা সহায়তা করবে। কৃষি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর কথাও জানিয়েছেন জার্মান রাষ্ট্রদূত। তার মতে, বাংলাদেশের বিশাল সম্ভাবনা এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর মতো বহু খাত রয়েছে। সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের সাফল্যেরও প্রশংসা করেছেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, এখন আমাদের লক্ষ্য নিরাপদ ও পৃষ্টিমাণ সমৃদ্ধ খাদ্য নিশ্চিত করা। এছাড়াও আধুনিক কৃষি ও বাণিজ্যিক কৃষির জন্য কাজ করে যাচ্ছে সরকার। কৃষিকে লাভজনক করতে হলে কৃষিপণ্য রপ্তানির কোন বিকল্প নেই। কৃষকরা যাতে তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য যথা সময়ে বাজারে বিক্রি করতে পারেন তার জন্য এলাকার সকল রাস্তা-ঘাঁট পাঁকা করা হয়েছে। জননেত্রীর নেতৃত্বে ও কৃষিবিদদের সহযোগিতায় আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছি। সারা বিশ্বে আমাদের সম্মান বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের বাজেটের আকার ও জিডিপি অনেক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভূঞাপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক মাসুদুল হক মাসুদ। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রহমান, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাপা, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, মির্জা আজম এমপি, জোয়াহেরুল ইসলাম এমপি, স্থানীয় এমপি তারভীর হাসান ছোট মনির, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শামসুল হক প্রমুখ।
এছাড়া সম্মেলনে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সকল সহযোগী সংঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ ১৬ বছর পর ভুঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষে সর্বসম্মতিক্রমে মাসুদুল হক মাসুদকে সভাপতি ও আব্দুল হামিদ ভোলাকে সাধারণ সম্পাদক হিসাবে ঘোষণা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের এমপি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ