Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

কুমুদিনী ট্রাস্ট স্বাস্থ্য সেবা ও নারী শিক্ষা প্রসারে নিবেদিত- শেখ হাসিনা

শেয়ার করুন

এম কবির ॥
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অর্থবিত্তের মালিক হওয়ার পরও রনদা প্রসাদ সাহা ভোগ বিলাসে ডুবে যাননি। বরং অর্জিত অর্থ মানব কল্যানে ব্যয় করেছেন। এখানেই অন্যদের চেয়ে রনদা প্রসাদ সাহা আলাদা। ছোট বেলায় মাকে হারিয়েছিলেন। সন্তান জন্মলাভের সময় তার মা মারা যান। যখন সামর্থ হয়েছে প্রথমেই তিনি মায়ের স্মৃতি রক্ষার জন্য মায়ের নামে কুমুদিনী হাসাপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। নারী শিক্ষার প্রতি তার ছিল গভীর আগ্রহ। একে একে প্রতিষ্ঠা করেন, ভারতেশ্বরী হোমস, কুমুদিনী কলেজ এবং পিতার নামে দেবেন্দ্র কলেজ। ১৯৫৪ সালে তিনি ঢাকা সেনানিবাসে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মেটারনিটি বিভাগের বিল্ডিং স্থাপন করেন। দেশের বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টের পরবর্তী প্রজন্ম প্রতিষ্ঠার মানবিক প্রয়াস-প্রান্তিক অসহায় জনপদে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান ও নারী শিক্ষা প্রসারে নিজেদের নিবেদিত রেখেছেন। সংস্থার সেবা কর্মযজ্ঞে যুক্ত হয়েছে কুমুদিনী উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ, কুমুদিনী নার্সিং স্কুল ও কলেজ, রনদা প্রসাদ সাহা বিশ্ববিদ্যালয়। অনগ্রসর মানুষের কল্যাণের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কুমুদিনী ট্রেড ট্রেনিং ইন্সটিটিউট।
কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গল (বিডি) লিমিটেডের আয়োজনে বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অবস্থিত কুমুদিনী কমপ্লেক্সে দানবীর রনদা প্রসাদ সাহা স্মারক স্বর্নপদক প্রদান ও কুমুদিনীর ৮৬তম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মার্চ আমাদের মহান স্বাধীনতার মাস। বঙ্গবন্ধুর ২৪ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং জেল জুলুমের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভুখন্ড। দানবীর রনদা প্রসাদ সাহা ও তার পুত্র ভবানী প্রসাদ সাহাকে ৭১ সালের ৭ মে নারায়নগঞ্জ কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের প্রধান অফিস থেকে হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী ও দেশীয় বর্বর দোসররা অপহরণ করে। তখন থেকেই তারা নিখোঁজ হন। হানাদার বাহিনী তাদের হত্যার পর লাশ গুম করে ফেলে। কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট একটি পরিবারের একনিষ্ঠ নির্ভিক পথ চলার দৃষ্টান্ত। রনদা প্রসাদ সাহা ও তার পুত্র হত্যার বিচার চলমান। আশা করি ন্যায় বিচার নিশ্চিত হবে। আমি আশা করি কুৃমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের উদ্যোগ আরো প্রসারিত হবে। শিক্ষা বিস্তার ও স্বাস্থ্য সেবা প্রদানে ট্রাস্টটি আগামী দিনেও সফলতার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবে। সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আরো গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখবে। আমার বাবা আমাকে এই কুমুদিনী স্কুলে ভর্তি করে দিতে চেয়েছিলেন। হোস্টেলে থেকে পড়ানো আমার মা’র খুব একটা মনপুত ছিল না। এরপর ’৫৮ সালে মার্শাল ল হয়। আমার বাবাকে জেলে নিয়ে যায়। এরপর আমার পড়াশুনা এমনিতেই বন্ধ। কাজেই আর আশা হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা আজ জাতীর পিতার অসমাপ্ত কাজগুলো বাস্তবায়ন করছি। বিগত দশ বছরে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, তথ্য প্রযুক্তি, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন, কুটনৈতিক সাফল্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধিসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। আজ বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন বাস্তবতা। সারাদেশে সড়ক, মহাসড়ক, সেতু, ফ্লাইওভার, পাতাল সড়ক, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, রেল, নৌ ও যোগাযোগ অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসুচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করছি। মেট্রোরেল নির্মানের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও মাদক নির্মুলে আমাদের সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করে যাচ্ছে। আমরাই বিশ্বের প্রথম শত বছরের ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়ন শুরু করছি।
প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে হেলিকপ্টার যোগে মির্জাপুর কুমুদিনী কমপ্লেক্সে অবতরণ করেন। এরপর তিনি গার্ড অব অর্নার নেন। পরে টাঙ্গাইল জেলার ১২টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ১৯টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তার ছোট বোন শেখ রেহেনা।
উদ্বোধনী ১২টি উন্নয়ন প্রকল্প হচ্ছে- ধেরুয়া রেলওয়ে ওভারপাস, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু ভিআইপি অডিটোরিয়ামের উদ্বোধন, ৩৩/১১ কেভি সুইচিং স্টেশন (গ্রীড সাবস্টেশন, বৈল্যা, রাবনা বাইপাস, টাঙ্গাইল), ৩৩/১১ কেভি ২০ এমভিএ ইনডোর উপকেন্দ্র (ইন্দ্রবেলতা, পোড়াবাড়ী, টাঙ্গাইল), বাসাইল উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়ণ ঘোষণা, দেলদুয়ার উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়ন উপজেলা ঘোষণা, নাগরপুর উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়ন উপজেলা ঘোষণা, সখীপুর উপজেলা কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক ভবন সম্প্রসারণ ও হলরুম উদ্বোধন, কালিহাতী (ধুনাইল)-সয়ার হাট হাতিয়া পর্যন্ত রাস্তার শুভ উদ্বোধন, মির্জাপুর উপজেলা কমপ্লেক্স সম্প্রসারিত ভবন উদ্বোধন, মির্জাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স উদ্বোধন ও মির্জাপুর উপজেলা প্রাণি সম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্র উদ্বোধন।
এছাড়া ১৯টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। তা হলো- এলেঙ্গা-জামালপুর জাতীয় মহাসড়ক (এন-৪) প্রশস্তকরণ প্রকল্প (টাঙ্গাইল অংশ), এলেঙ্গা-ভূঞাপুর-চরগাবসারা সড়কে ১০টি ক্ষতিগ্রস্থ সেতু ও ১টি কালভার্ট পুনঃনির্মাণ এবং আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন, টাঙ্গাইল-দেলদুয়ার জেলা মহাসড়ক (জেড-৪০১৫), করটিয়া (ভাতকুড়া)-বাসাইল জেলা সড়ক (জেড-৪০১২) এবং পাকুল্লা-দেলদুয়ার-এলাসিন (জেড-৪০০৭) অংশকে যথাযথমানে ও প্রশস্থতায় উন্নীতকরণ, কালিহাতী উপজেলা কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক ভবন সম্প্রসারণ ও হলরুম নির্মাণকাজ, বাসাইলের করটিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণকাজ, দেলদুয়ারে বাতেন বাহিনী মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর নির্মাণকাজ, ঘাটাইলের রসুলপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণকাজ, ঘাটাইলের লোকেরপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণকাজ, দেলদুয়ারে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কার্যালয় নির্মাণকাজ, জেলা সদর মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজ, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজ, বাসাইল উপজেলা মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজ, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা ভূমি অফিস নির্মাণ কাজ, সখীপুর উপজেলা ভূমি অফিস নির্মাণ কাজ, মধুপুর উপজেলা ভূমি অফিস নির্মাণকাজ, মির্জাপুর উপজেলা ভূমি অফিস নির্মাণকাজ, টাঙ্গাইল সার্কিট হাউসের নতুন ভবন নির্মাণ কাজ, ভারতেশ্বরী হোমস এর মাল্টিপারপাস হল নিমার্ণ কাজ, মির্জাপুর ইন্সটিটিউট অব পোস্ট গ্রাজুয়েট নার্সিং কমপ্লেক্স নিমার্ণ কাজ।
এরপর প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠান সভামঞ্চে আসেন। এ সময় ভারতেশ্বরী হোমসের শিক্ষার্থীরা জাতীয় সঙ্গীত, দেশাত্ববোধক গান ও মনোজ্ঞ ডিসপ্লে প্রদর্শন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী (মরনোত্তর), জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম (মরনোত্তর), নজরুল বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদকে বিশেষ অবদান রাখায় দানবীর রনদা প্রসাদ সাহা সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর পক্ষে স্মারক সম্মাননা ও স্বর্নপদক গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহেনা, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পক্ষে সম্মাননা এবং স্বর্নপদক গ্রহণ করেন তার নাতনী খিলখিল কাজী। এছাড়া অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ও চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে সম্মাননা গ্রহণ করেন।
কুমুদিনী কল্যান ট্রাস্টের পরিচালক ভাষা সৈনিক প্রতিভা মুৎসুদ্দির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুমুদিনী কল্যান ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজিব প্রসাদ সাহা ও পরিচালক শ্রীমতি সাহা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, একাব্বর হোসেন এমপি, অসীম কুমার উকিল এমপি, জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের এমপি, আহসানুল ইসলাম টিটু এমপি, তানভীর হাসান ছোট মনির এমপি, আতাউর রহমান খান এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রী ভাত খেলেন কাঁসার থালায়-
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মির্জাপুর কুমুদিনী পরিবারের পক্ষ থেকে দুপুরের খাবারে কাঁসার থালায় ভাত খেতে দেয়া হয়েছে বলে ট্রাস্টের পরিচালক ভাষা সৈনিক প্রতিভা মুৎসদ্দি জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর খাবার মেনুতে পাঁচ ফোঁড়নের লাবড়া ও খিরের মালপোয়াসহ ৩০ পদের খাবার দেয়া হয়েছিল।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী কুমুদিনী কমপ্লেক্স ও হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন। হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ প্রদীপ কুমার রায় জানিয়েছেন, এ দিন হাসপাতালের রোগীদের মধ্যে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। কুমুদিনী নার্সিং কলেজের প্রিন্সিপাল সিস্টার রিনা ক্রুস জানান, প্রধানমন্ত্রী আমাদের মাঝে এসেছেন, এ খবরে আমরা আনন্দিত ও গর্বিত। এছাড়া এ রকম একজন মহৎ প্রাণের সান্নিধ্য পেয়ে এখানকার সব সেবিকার মধ্যে মানুষকে সেবা দিতে নতুন ভাবে উৎসাহ ও প্রেরণা সৃষ্টি হয়েছে।
দুপুরের খাবার শেষে বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রী কুমুদিনী কমপ্লেক্স ত্যাগ করেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ