Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

কালিহাতী হাসপাতালে রোগীদের ভোগান্তি ॥ স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

শেয়ার করুন

কাজল আর্য, কালিহাতী ॥
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ব্যাপক অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সেইসাথে সাধারণ রোগীদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। এতে মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে সরকারের স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচীসহ মৌলিক স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম। এদিকে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা।
সরেজমিনে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন নেই, আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিনও নষ্ট। ফলে সাধারণ রোগীদের রোগ নির্ণয়ের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাহির থেকে বেশি টাকা দিয়ে করতে হচ্ছে। রোগী আনা নেয়ার জন্য এ্যাম্বুলেন্সটিও অনুপযোগী। গুরুতর রোগীদের এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে চলাচল করতে হয়। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে ভর্তি রোগীদের সাথে প্রতিনিয়তই খারাপ আচরণ ও দুর্ব্যবহার করেন দায়িত্বরত নার্স-কর্মচারীরা। হাসপাতালের বর্হিবিভাগের কর্মরত ডাক্তাররা সময়মত অফিস করেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের খাবার সরবরাহের কারণে অনেক রোগীই হাসপাতালের খাবার খেতে পারেন না।
হাসপাতালে ভর্তি কালিহাতীর পাছচারান গ্রামের বাদল মিয়ার স্ত্রী শান্তা বেগম টিনিউজকে বলেন, চারদিন পর আমার বিছানার নোংড়া কাপড় পরিবর্তন করে দিয়েছে। আর খাবার অত্যন্ত নিম্নমানের। ডাল আর পানির তফাৎ বুঝা যায় না। হামিদপুরের শামছুন্নাহার নামের আরেক রোগী টিনিউজকে বলেন, ডাকতে ডাকতে ডাক্তার-নার্সরা আসতে চায় না। ডাকলে নার্সরা ধমকা ধমকি করেন।
কালিহাতী উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ চন্দ্র সাহা টিনিউজকে বলেন, বহিঃবিভাগের ডাক্তাররা সময়মতো আসেন না। আমি উপজেলা আইনশৃংখলা কমিটির সভায় হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরেছি। এর প্রতিকার হওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদ আহমেদ টিনিউজকে বলেন, হাসপাতালে অনিয়মের শেষ নেই এবং পরিবেশ নোংরা। ডাক্তারদের গাফিলতির কারণে সাধারণ মানুষ সুচিকিৎসা পাচ্ছেন না। এগুলো দেখার কেউ নেই। গত (২৫ জুন) সকালে কালিহাতীতে একটি ট্রাক দুর্ঘটনায় ৫ জন মারা যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় কয়েকজনকে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে সেখানে ডাক্তার পাওয়া যায়নি। পরে আহতদেরকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালে সকাল ১০টায় গিয়ে দেখা যায়, বহির্বিভাগের ডাক্তাররা সঠিক সময়ে হাসপাতালে আসেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালের প্রধান সহকারীর নাম লাল মাহমুদ মিয়া। সবাই তাকে বড়বাবু বলে ডাকেন। তাকে খুশি না করলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, বিল ভাউচার সময়মত পাওয়া যায় না বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন। বড়বাবুর হাতে হাসপাতালের কর্মচারীরা জিম্মি হয়ে রয়েছে।
এদিকে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী ফরহাদুল হকের বিরুদ্ধেও উঠেছে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ। তিনি স্টোর রুমে থাকা এসি মেশিন নিজের থাকার রুমে লাগিয়েছেন। এসব বিষয়ে ডা. কাজী ফরিদুল হক টিনিউজকে বলেন, হাসপাতালে কোন অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম নেই। তবে কিছু জরুরী যন্ত্রাংশ মেরামত এবং ক্রয় করতে হবে। এতে স্বাস্থ্য সেবা কিছুটা হলেও ব্যাহত এবং রোগীদের ভোগান্তি হচ্ছে। এজন্য আমরা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি।
এসব বিষয়ে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. শরিফ হোসেন খান টিনিউজকে বলেন, হাসপাতালের এসব অভিযোগ সম্পর্কে আমাকে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কিছই জানায়নি। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অনুমতি ছাড়া এসি মেশিন নিজের রুমে লাগাতে পারেন না। ডাক্তারদের সঠিক সময়ে না আসা এবং নার্সদের দুর্ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, সরকারের পাইলট প্রকল্প হিসেবে বিনামুল্যে স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচী (এসএসকে) গত ২০১৬ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা হাসপাতালে উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ