Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

কালিহাতীর রামপুরে এনসিসি ব্যাংকের গ্রাহকদের ৬২ লাখ টাকা আত্মসাৎ

শেয়ার করুন

মাসুদ আব্দুল্লাহ ॥
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার রামপুরে ন্যাশনাল ক্রেডিট এন্ড কমার্স ব্যাংক (এনসিসি) শাখা থেকে গ্রাহকদের প্রায় ৬২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই ব্যাংকে কর্মরত ডাইরেক্ট সেলস এ্যাসিসটান্ট (ডিএসএ) পদের মনিরুল ইসলাম ইউছুব নামের এক ব্যক্তি গ্রাহকদের ব্যাংকে জমা দেয়া এসব টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তবে গ্রাহকদের অভিযোগ তাদের প্রায় এক কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ঘটনায় শতশত গ্রাহকরা সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিনভর ব্যাংক কর্মকর্তাদের ব্যাংকের ভিতরে অবরুদ্ধ করে রাখে।
জানা গেছে, টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বল্লা রামপুর তাঁত সমৃদ্ধ এলাকা। এলাকার বেশীর ভাগ লোক তাঁত শাড়ীর ব্যবসার সাথে জড়িত। ব্যবসা সমৃদ্ধ এলাকা হওয়ায় বিগত ২০১০ সালে রামপুর বাজারে একটি বাসার দ্বিতীয় তলায় এনসিসি ব্যাংকের কার্যক্রম চালু হয়। ওই সময় থেকে ব্যাংকটি সুনামের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। বিগত ২০১১ সালে ডাইরেক্ট সেলস এ্যাসিসটান্ট (ডিএসএ) পদে যোগ দেন মনিরুল ইসলাম ইউছুব। তার বাড়ি বল্লা গ্রামে। তিনি যোগদান করেই গ্রাহকদের সাথে ভাল সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তার কাজ ছিল ব্যাংকের সুনাম তুলে ধরে গ্রাহকদের ব্যাংকে নতুন হিসাব খোলা এবং গ্রাহকদের আমানত জমা রাখতে উদ্বুদ্ধ করা। সেই হিসেবে এলাকার বিভিন্ন বড় বড় ব্যবসায়ীদের সাথে তার সুসম্পর্ক গড়ে উঠে। এছাড়া যারা প্রবাসী তাদের স্ত্রীদের বেশী মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে ব্যাংকে হিসাব খোলা ও বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা জমা রাখতে উদ্বুদ্ধ করতেন। তারা প্রলোভনের ফাঁদে পা দিয়ে অনেকেই তার কাছে টাকা জমা রাখেন। মনিরুল ইসলাম ইউছুব ব্যাংকের জমা রশিদ বই জাল করে ছাপিয়ে নিজের কাছে রাখতেন। সুসম্পর্কিত কেউ ব্যাংকে টাকা জমা দিতে এলে টাকা জমা রেখে তিনি ওই জাল রশিদ বই দিয়ে দিতেন। এছাড়া গ্রাহকদের চেক বই তাদের কাছ থেকে স্বাক্ষর করিয়ে রাখতেন। পরে সুবিধামত সময়ে সেই টাকা নিজে উঠিয়ে নিয়ে আত্মসাৎ করতেন।

জানা যায়, বল্লা রামপুর এলাকার সাদ্দাম হোসেন নামের এক প্রবাসী ৩৫ লাখ টাকা এনসিসি ব্যাংকে এফডিআর জমা দেন। তিনি মাঝে মধ্যে দেশে আসলে ইউছুবের সাথে সম্পর্ক হয়। সেই সুবাদে তার কাছেই রশিদের মাধ্যমে টাকা জমা দেন। গত তিনদিন আগে সে দেশে এসে রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) টাকা উঠনোর জন্য চেক দিলে দেখা যায় তার হিসাব নম্বরে কোন টাকা নেই। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকার বিভিন্ন লোকজন এসে ব্যাংকে ভির করেন। তারা তাদের হিসাব নম্বরে টাকা আছে কিনা তা জানতে চান। এ সময় ব্যাংকে প্রচন্ড ভির পরে যায়। টাকা আত্মসাতের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে ব্যাংকের গ্রাহকরা তাদের জমা টাকা নিয়ে আতংকিত হয়ে পড়েন। সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সারাদিন শত শত গ্রাহক ব্যাংকের নিচে জমায়েত হন। তারা ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাংকের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে সকল গ্রাহকদের পাওনা টাকা ফিরিয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অভিযুক্ত ওই ব্যাংকারকে ব্যাংকের একটি রুমের মধ্যে আটক করে রাখেন।
রামপুরের মিনু বেগমের সাড়ে ৫ লাখ টাকা, কামাল হোসেনের ৮ লাখ টাকা, আব্দুল আলীম নামের এক ব্যক্তির সাড়ে ৭ লাখ টাকা সহিদুল ইসলাম নামের একজনের ৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এভাবে প্রায় ৯ জনের কাছ থেকে ৬২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে টিনিউজের কাছে স্বীকার করেছেন মনিরুল ইসলাম ইউসুব। তবে গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন তাদের প্রায় এক কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মাসাৎ করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্থ সাদ্দাম হোসেন কান্নাজড়িত কন্ঠে টিনিউজকে বলেন, ভাই আমার জীবনের সব সঞ্চয় ব্যাংকে জমা রেখেছিলাম। আমি তাকে বিশ্বাস করে ব্যাংকে এসেই টাকা জমা দিয়েছিলাম। এভাবে সে টাকা আত্মসাৎ করবে বুঝতে পারিনি। টাকা না পেলে আমার মৃত্যু ছাড়া কোন উপায় নেই। রামপুর গ্রামের মিনু বেগম টিনিউজকে বলেন, চার কিস্তিতে আমি ব্যাংকে টাকা জমা দিয়েছি। টাকা উঠাতে এসে দেখি এখন আমার টাকা নেই। তাঁতী ব্যবসায়ী আব্দুল আলীম টিনিউজকে বলেন, ইউবছুবকে অনেক বিশ্বাস করতাম। সে এভাবে আমাদের টাকা আত্মসাৎ করবে ভাবতে পারিনি। তাঁর উপযুক্ত শাস্তি হওয়া দরকার।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ইউছুব টিনিউজকে বলেন, আমি গ্রাহকদের সাথে সম্পর্ক করে তাদের আমানত আত্মসাৎ করেছি। আমি আমার দোষ স্বীকার করছি। সব টাকা আমি দিয়ে দিব।
এ ব্যাপারে এনসিসি ব্যাংকের রামপুর শাখার ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ টিনিউজকে বলেন, ব্যাংকের হিসাব মতে ৬২ লাখ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। এ বিষয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। ব্যাংক সব টাকা পরিশোধ করে দিবে। এরপর ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতিমধ্যে সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাদ্দাম হোসেন নামের এক গ্রাহকের ৩৫ লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে। তিনি দুই একদিনের মধ্যে চেক ভাঙ্গিয়ে টাকা নিতে পারবেন।
এদিকে ব্যাংকের টাকা আত্মসাতের খবর পেয়ে ঢাকা প্রধান অফিস থেকে মোখলেছুর রহমান নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তা এসে সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ব্যাংকে আসেন। এরপর তিনি তদন্ত কাজ শুরু করেছেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ