Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

কালিহাতীতে কর্মসংস্থান কর্মসূচির কোটি টাকা হরিলুটের পায়তারা!

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় কর্মসংস্থান কর্মসূচির অতিদরিদ্রদের টাকার সিংহভাগই প্রকল্প সভাপতিরা (ইউপি সদস্য) কৌশলে পকেটস্থ করার অভিযোগ উঠেছে। অনিয়মে ভরপুর এই প্রকল্পটি অসময়ে শুরু হওয়ায় শ্রমিক সঙ্কটের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
কালিহাতী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে কর্মসংস্থান কর্মসূচি(দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দুই হাজার ৮৩জন শ্রমিকের বিপরীতে এক কোটি ৬৬ লাখ ৬৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। উপজেলায় ৫৮টি প্রকল্পে ২৯ লাখ ১৬ হাজার ২০০ ঘণফুট মাটি ভারাটের নির্দেশনা রয়েছে। দূর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদ, গোহালিয়াবাড়ী, সল্লা, দশকিয়া, নারান্দিয়া, বাংড়া, সহদেবপুর, পাইকড়া, বল্লা, কোকডহরা, বীরবাসিন্দা, পারখী ও নাগবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটিতে ৪-৫টি পৃথক প্রকল্পে ১২৫জন করে শ্রমিক কাজ করার কথা রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন ইউনিয়নে গত (৮ এপ্রিল) থেকে প্রকল্পটির কাজ শুরু করার কথা থাকলেও অনেক প্রকল্পেই পরবর্তী সপ্তাহে কাজ শুরু করা হয়। কোন কোন প্রকল্প সভাপতি সপ্তাহে ৫দিনের স্থলে ৩-৪দিন কাজ করাচ্ছেন। অন্য কর্মদিবসে শ্রমিকদের ছুটি দেয়ার নাম করে কাজ বন্ধ রাখছেন। এরমধ্যে কোকডহরা, বীরবাসিন্দা ও পারখী ইউনিয়নের প্রকল্পগুলোতে ২৫-৫০জন শ্রমিকের স্থলে অধিকাংশ প্রকল্পেই ৮ থেকে ১৪জন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা গেছে।
পারখী ইউনিয়নের আউলিয়াবাদ পিয়ার আলীর বাড়ি থেকে রজব আলীর বাড়ি পর্যন্ত প্রকল্পে ৫০ জন শ্রমিক থাকার কথা থাকলেও ১৩জন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়। এরমধ্যে ২জন পুরুষ ও ৯জন মহিলা। এ প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য মর্জিনা টিনিউজকে জানান, এ সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না- সবকিছু ইউপি চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী তালুকদার জানেন এবং লোক দিয়ে তদারকি করে থাকেন। একই ইউনিয়নের বর্গা গ্রামের মতির বাড়ি থেকে নুরুল ইসলামের বাড়ি পর্যন্ত প্রকল্পে ২৫জন শ্রমিকের স্থলে ১১জনকে কাজ করতে দেখা যায়। এরমধ্যে ৩জন পুরুষ ও ৮জন মহিলা। মহিলা শ্রমিকরা টিনিউজকে জানায়, প্রকল্প সভাপতি ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের সপ্তাহে ৩-৪দিন কাজ করায় এবং অন্যদিনগুলোতে ছুটি দিয়ে থাকেন। একই ইউপির আব্দুস ছামাদ মেম্বারের প্রকল্পে ২৫জন শ্রমিকের মধ্যে ৮জন দিয়ে কাজ করাতে দেখা যায়। পারখী ইউনিয়নের সদস্য আব্দুল কদ্দুছের সভাপতিত্বে বাস্তবায়নকৃত পূর্বাসিন্দা পাকা রাস্তা থেকে বড় মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার প্রকল্পে ২৫ জনের মধ্যে ১৩জন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়।
শ্রমিকরা টিনিউজকে জানায়, এখন ধান কাটার মৌসুম চলছে। এ মৌসুমে প্রতিজন শ্রমিকের নূন্যতম মজুরি ৭০০ টাকা। আর প্রকল্পে কাজ করলে ২৫টাকা আমানত রেখে ১৭৫টাকা পাওয়া যায়। তারা এ প্রকল্পের মজুরি বাড়ানোর দাবি জানান। তাদের দেয়া জব কার্ড ও ব্যাংকের চেক বই ইউনিয়ন পরিষদে জমা রাখা হয়েছে। জব কার্ড ও চেক বইয়ে তাদের কারো কারো নাম-স্বাক্ষর নেয়া হলেও অধিকাংশেরই নেয়া হয় না। তাদের কোন হাজিরা নেয়া হয় না, অধিকাংশ প্রকল্পেই পরিদর্শন বই ও সাইনবোর্ড নেই।
কয়েকজন প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্য টিনিউজকে জানান, ধান কাটার মৌসুম থাকায় শ্রমিক পাওয়া যায় না। তাই কম শ্রমিক দিয়ে কাজ করাতে হচ্ছে। তারা এ প্রকল্পটি ধান কাটার মৌসুম বাদ দিয়ে অন্য সময় বাস্তবায়নের দাবি জানান।
এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সেহাব উদ্দিন টিনিউজকে জানান, শ্রমিকের সঙ্কট রয়েছে এটা সত্য। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ন হলে কোন প্রকার ছাড় দেয়া হবে না।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ