Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

কতিপয় বিচারপতি বিতর্কিত রায় দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের কলঙ্কিত করেছেন- মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী

শেয়ার করুন

নোমান আব্দুল্লাহ ॥
দেশের বিচার বিভাগ ও বিচারপতিদের কঠোর সমালোচনা করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এমপি বলেছেন, আমরা তাদের বাদ দিয়েছি। আমরা তাদের মানি না। আদালতে কি হয়েছে আপনারা তা জানেন। এটা খুব দুঃখজনক। আমাদের কাছে না জেনে, না শুনে তাদের ক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন না হয়ে যা করা হয়েছে তা ক্ষমতা ও বিচারের নামে দুবৃত্তায়ন করা হয়েছে। মনে রাখবেন মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছেন বলেই আপনি বিচারপতি হয়েছেন। ভুলে যাইয়েন না যে আপনার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে আমরা যুদ্ধ করেনি। মুক্তিযোদ্ধাদের আর বেশি বিরক্ত কইরেন না। মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধের ট্রেনিং জমা দেয়নি, বঙ্গবন্ধুর কথায় আমরা অস্ত্র জমা দিয়েছি। দেশে আর কোন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকা করার সুযোগ নাই। মুজিবনগর সরকারের কর্মচারির নামে যারা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে সাব-রেজিস্টার, কাস্টমর্সসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চাকরি করছেন তাদের পক্ষে কতিপয় বিচারপ্রতি রায় দিয়ে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার কলঙ্কিত করেছেন।
এ সময় তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে সীমালঙ্ঘন না করার জন্য অনুরোধ ও হুশিয়ারি করে বলেন, বারবার তারা মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে সীমালঙ্ঘন করছে। বলে তাদের বয়সও লেখা যাবে না। ওই অপদার্থ ও কুলাঙ্গাররা স্বাধীনতার পরে যাদের জন্ম তাদেরকেও মুক্তিযোদ্ধা বানানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছে! সেইসব কুলাঙ্গারদের মেনে চলতে হবে তা ভাবার কোন কারণ নাই। জজ সাহেব-বিচারপতিরা একটু বুঝার চেষ্টা করেন। যে আদেশ মুক্তিযোদ্ধারা লাথি মেরে ফেলে দিবে ভবিষৎতে তা না দেবার চেষ্টা কইরেন। তিনি আরও বলেন, এই বিচার বিভাগ তার স্বেচ্ছাচারিতা, তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে যা কিছু করতে পারে। সমস্ত স্বেচ্ছাচার স্বৈরাচারীদের পতন হয়েছে, ইতিহাস পড়েন নাই। যারা বিচারপতি হয়েছেন তারা কি অন্যগ্রহ থেকে এসেছেন। গানে বলা আছে- বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা, আজ জেগেছে এই জনতা।
সোমবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ পরিষদ ও শহীদ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের এখনও স্থায়ী সনদ দেয়া হয় নাই। সনদের বিষয় নিয়ে আমি কাজ করে যাচ্ছি। আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে মুক্তিযোদ্ধাদের ২টি সনদপত্র, আইডি কার্ড দেয়া হবে। একটি স্থায়ী সনদপত্র, অপরটি একটি সনদ দেয়া হবে। যেটি বাসায় টাঙিয়ে রাখা যাবে। এছাড়াও প্রত্যেকটি রাস্তা-ঘাট, কালবার্ট, ব্রিজসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনাও মুক্তিযোদ্ধাদের নামে করার সিদ্ধান্ত হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সংসদ ভবন একটি পবিত্র জায়গা। এই জায়গায় কোন খুনির কবর থাকতে পারে না। জিয়াউর রহমান জেড ফোর্সের কমান্ডার ছিলেন। পরবর্তী কর্মকান্ডের জন্য তিনি খুনি জিয়া হিসেবে পরিচিত। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে সংসদ ভবন থেকে জিয়ার কবর অপসারণ করা হবে। আমি আগেও বলেছি, কেউ যদি প্রমান দিতে পারেন জিয়াউর রহমানের লাশ সংসদ ভবন এরিয়ায় দাফন করা হয়েছে। তাহলে আমরা মেনে নেব। জিয়াউর রহমানের সব তথ্য আমাদের কাছে আছে। জিয়াউর রহমানকে যারা হত্যা করেছে। আমরা তাদের সাথে কখনই একমত ছিলাম না, এখনও নাই।
মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক রাষ্ট্রদূত বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ারুল আলম শহীদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম, পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান মিরন, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম প্রমুখ। এ সময় বিভিন্ন উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ