ঈদের দিনে না খেয়ে থাকা শ্রমিকদের খাওয়ালেন বাসাইল পৌর মেয়র

শেয়ার করুন

বাসাইল প্রতিনিধি: মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। আর ঈদকে ঘীরে থাকে নানা ব্যস্ততা, থাকে উৎসবমুখর পরিবেশ। কিন্ত এবারের ঈদ পালিত হচ্ছে একেবারেই ভিন্ন আঙ্গিকে ভিন্ন পেক্ষাপটে। ঈদ উপলক্ষে চারিদিকে আনন্দ-উৎসবে মুখর চিরচেনা সেই আনন্দ নেই এবার। ঈদে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনকে দাওয়াত দেয়া দূরের কথা, করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে কেউ যেন বাসায় প্রবেশ না করে সেদিকে লক্ষ্য সবার। বিশেষ প্রয়োজনে কোনো আত্মীয় দরজায় কড়া নাড়লেও প্রয়োজনটা মিটিয়ে বাইরে থেকে বিদায় দিতে পারলেই যেন ভালো হয় এমন অবস্থা। এরই মাঝে ব্যতিক্রম আর মানবিক এক ঘটনা ঘটলো টঙ্গাইলের বাসাইলে। চলতি বোরো মৌসুমে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও রংপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, সিরাজগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও জামালপুর জেলা থেকে কয়েক হাজার শ্রমিক বাসাইলে ধান কাটার জন্য এসেছেন। বেশির ভাগ শ্রমিক উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কৃষকদের ধান কেটেছেন। আবার বাড়িও ফিরে গেছেন। কিন্তু লকডাউন থাকার কারণে ফিরতে পারেনি অনেকেই। আর যারা ফিরতে পারেনি তারা পড়েছে মহা সংকটে। উপজেলার সকল খাবার হোটেল বন্ধ থাকায় প্রায় ২০০ শ্রমিক কাজ না পেয়ে অভূক্ত থেকে ঈদের দিন সোমবার (২৫ মে) উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়ের বারান্দায় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছে। ঈদ উদযাপনে যখন ব্যস্ত সবাই, ঠিক তখনই না খেয়ে আকাশের দিকে চেয়ে সময় পাড় করছিল তারা। এরকম পরিস্থিতির খবর পেয়েই আর নিজেকে করোনার কারণে ঘরবন্দি করে রাখতে পারলেন না বাসাইল পৌরসভার মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম আহমেদ। খবর পেয়েই ছুটে আসলেন তাদের কাছে। ঈদের কারণে সকল দোকান পাট ও পৌর কার্যালয় বন্ধ থাকলেও কিছু স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়েই শুরু করলেন এই না খেয়ে থাকা মানুষের খাওয়ার ব্যবস্থা করতে। শুরু হলো বিশাল কর্মযজ্ঞ। অনেকটা বিয়ে বাড়ির রান্নার মতই চললো সকল প্রস্তুতি। নিজে দাড়িয়ে থেকে সকল কাজ পর্যবেক্ষণ করার পাশাপাশি রান্না শেষে সেই শ্রমিকদের হাতেই তুলে দিলেন খাবারের থালা। শুধু খাবার দিয়েই তিনি সন্তুষ্ঠ হননি। অল্প সময়ে যা ব্যবস্থা করতে পেয়েছেন তার চেয়ে ভালো কিছুর আয়োজন না করতে পারায় ক্ষমাও চাইলেণ শ্রমিকদের কাছে। সেই সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য চাইলেন দোয়া। আর এরই মাঝে মানবতার এক বিরল দৃষ্টান্তও স্থাপন করলেন তিনি। রাতভর নিজে দাড়িয়ে থেকে সুষ্ঠু ভাবে খাওয়ানো তদারকির পাশাপাশি নিজ হাতেও পরিবেশন করলেন খাবার। এসময় তিনি শ্রমিকদের উদ্দেশ্য বলেন, বিশ্ব মহামারির এই সময়েও আপনারা যে কাজ করছেন, সেটা শুধু কাজই নয়। একটি ইবাদতের শামিল। তাই আপনাদের জন্য কিছু করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। এসময় তার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এ কাজটি করলেন বাসাইল পৌরসভার প্যানেল মেয়র বাবুল আহমেদ ও স্থানীয় প্রেসক্লাবের কয়েকজন সাংবাদিক।

 

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ