ইয়াবার ঘটনায় পাঁচ দিনেও দুই কনস্টেবল গ্রেফতার হয়নি

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের সখীপুরে এক দিন মজুরকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর ঘটনায় ৫ দিনেও পলাতক দুই কনস্টবলকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ বলছে পলাতক এই দুই সদস্য আত্মগোপনে রয়েছে, তাদেরকে গ্রেফতারের অভিযান অব্যহত রয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা জড়িতদের শাস্তির দাবি করেন। পলাতক দুই পুলিশ সদস্যরা হলেন- মির্জাপুরের বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল হালিম ও মোজাম্মেল।
এদিকে গ্রেফতারকৃত পুলিশের সোর্স আল-আমিনকে রোববার (১ ডিসেম্বর) টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। একই দিন দুই দিনে রিমান্ডে আসা মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই রিয়াজুল ইসলাম, কনস্টবল গোপাল সাহা, রাসেদুল ইসলাম এবং পুলিশের সোর্স হাসানকে জিঞ্জাসাবাদ শেষে রোববার (১ ডিসেম্বর) কারাগারে পাঠানো হয়।
মির্জাপুর ও সখীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাধারণ লোকজনের মধ্যে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। বিশেষ করে মির্জাপুর উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন এবং সখীপুর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন পাহাড়ি এলাকায় হওয়ায় কিছু সংখ্যাক অসাধু পুলিশ সদস্য তাদের দালাল চক্রের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে নির্বিঘেœ- বলে এমন অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ ও তাদের সোর্সদের হাতে হয়রানীর শিকার একাধীক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, উপজেলার কালিয়া, কাকরাজান, বহুরিয়া, হাতিবান্ধা, যাদবপুর, দারিয়াপুর, বহেরাতৈল ও গজারিয়া এই ৮ ইউনিয়ন এবং মির্জাপুর উপজেলার ফতেপুর, জামুর্কি, মহেড়া, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাদগ্রাম, ভাওড়া, বহুরিয়া, লতিফপুর, বাঁশতৈল, আজগানা, তরফপুর ও গোড়াই এই ১৪টি ইউনিয়নে দীর্ঘ দিন ধরে কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য ও তাদের সোর্স ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক দিয়ে নিরীহ ও সাধারণ লোকজনকে ফাঁসিয়ে মামলার ভয় ও হয়রানী করে লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য করে আসছে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো তদন্ত সাপেক্ষে এসব অপকর্মের সঙ্গে যে সব পুলিশ সদস্য ও তাদের সোর্স জড়িত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সখীপুর থানার (এসআই) ওমর ফারুক টিনিউজকে বলেন, পলাতক দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতারের অভিযান অব্যহত রয়েছে। তারা আত্মগোপনে রয়েছে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় টিনিউজকে বলেন, অপরাধী যেই হোক তাকে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। তাকে শাস্তি পেতেই হবে। ৫ পুলিশ সদস্য ও দুই সোর্সসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২ জন কনস্টেবল পলাতক রয়েছে। তাদেরকে গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটককৃত ও পলাতক পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) দিবাগত রাতে সখীপুর থানার এসআই আয়নুল হক বাদি হয়ে পুলিশের ওই ৩ সদস্য ও সোর্সসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করেন।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মির্জাপুর থানার বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই রিয়াজুলের নেতৃত্বে ৫ পুলিশ সদস্য সাদা পোশাকে ও তাদের সোর্স সখীপুর উপজেলার হাতীবান্ধা ইউনিয়নের গাবিলার বাজারে গিয়ে দিনমজুর বজলু মিয়ার পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়ে তাকে জোর করে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় তুলে নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বজলু চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে ওই অটোরিকশা আটক করে। পরে বজলু উপস্থিত লোকজনকে ‘পুলিশ তার পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়ে অটোরিকশায় তুলেছে’ একথা জানালে উপস্থিত জনতা উত্তেজিত হয়ে তাদের আটক করে। পরে তাদের পকেট তল¬াশি করে কয়েক প্যাকেট ইয়াবা উদ্ধার করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা তাদেরকে গণপিটুনি দিতে থাকলে কনস্টেবল হালিম ও মোজাম্মেল এবং তাদের অপর সোর্স আল আমিন পালিয়ে যায়। পিটুনি দিয়ে এএসআই রিয়াজুল, কনস্টেবল গোপাল সাহা ও রাসেল এবং হাসানকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। এ খবর জানতে পেরে রাতেই মির্জাপুর ও সখীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং অভিযুক্ত পুলিশদের উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল সখীপুর থানাধীন হওয়ায় আটককৃতদের সখীপুর থানায় সোর্পদ করা হয়। পরে শনিবার (৩০ নভেম্বর) এ ঘটনায় পলাতক আসামী সোর্স আল আমিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ